রাজশাহীর মিষ্টিতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

2026-06-23 10:22:46 [5]

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রাজশাহী সফরে এসে শহরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করেছেন। সফরের সময় তিনি রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে গিয়ে প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা, মিষ্টি দই ও টকদইয়ের স্বাদ নেন। মিষ্টির স্বাদে তার সন্তুষ্টি ও উচ্ছ্বাস উপস্থিত সবার দৃষ্টি কাড়ে। পরে নিজের ফেসবুক পোস্টেও তিনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির প্রশংসা করেন।

ফেসবুক পোস্টে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন লেখেন, রাজশাহীর প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মনকাড়া সুগন্ধ ও মিষ্টির আকর্ষণ উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। গত মঙ্গলবার দুই দিনের সফরে তিনি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন। সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার ঢাকায় ফেরার আগে আকস্মিকভাবেই তিনি ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টির দোকানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার আগমনের খবর পেয়ে দোকান কর্তৃপক্ষ বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে।

রাজশাহীর সাহেববাজারে অবস্থিত রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৬ সালে। ভারতের জয়পুরের মারওয়ারি ব্যবসায়ী রামপ্রসাদ আগরওয়ালা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। দেশভাগের পর তিনি দোকানের দায়িত্ব কর্মচারী কানাইলালের কাছে দিয়ে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে মালিকানা পরিবর্তন হলেও প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্যবাহী নাম ও সুনাম এখনও অক্ষুণ্ন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র পাল জানান, ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এখানে কাজ করছেন। খাঁটি ছানা, মাওয়া, পোস্তদানা, চিনি ও নলেন গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টির জন্যই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতকে প্যারা সন্দেশ, দধিয়া সন্দেশ, মুণ্ডা ও দই পরিবেশন করা হয় এবং তিনি সবকিছুর স্বাদ নিয়ে প্রশংসা করেন। গণেশ চন্দ্র পাল আরও জানান, ২০১৯ সালেও ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজশাহী সফরে এসে এই দোকানের মিষ্টি খেয়েছিলেন।

বর্তমানে রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে প্রায় ২৪ ধরনের মিষ্টি ও সন্দেশ তৈরি হয় এবং প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় মণ মিষ্টি বিক্রি হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দেড় বছর আগে সাহেববাজারের মুড়িপট্টিতে আরও একটি শাখা চালু করা হয়েছে। দুই শাখায় বর্তমানে ৪৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন। মিষ্টির পাশাপাশি সকালের নাশতাও প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি ঐতিহ্য। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এখানে লুচি ও ডাল পরিবেশন করা হয়। সময়ের সঙ্গে লুচির দাম বাড়লেও ডাল এখনও বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে একটি লুচির দাম ছিল ১০ পয়সা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা।

রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।