ইসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জামায়াতের

2026-01-19 14:22:07 [8]

জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুতে ইসি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে তারা দাবি করেছে।

রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, মনোনয়নপত্র বৈধ বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে ইসি ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করছে। একই ধরনের ভুলের জন্য কারও মনোনয়ন বৈধ করা হচ্ছে আবার কারও বাতিল করা হচ্ছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে জামায়াত অভিযোগ করে যে, একটি নির্দিষ্ট দল নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারা চায় ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন যেন বাতিল না হয়। জামায়াত আরপিও অনুযায়ী কঠোরভাবে সব প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি জানায়।

মাঠপর্যায়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) অনেকের ভূমিকাও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেছে দলটি। জামায়াত জানিয়েছে, তারা এসব কর্মকর্তার একটি তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

নির্বাচন স্বচ্ছ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সেনাবাহিনী বা পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে জামায়াত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, কেন্দ্রের ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কেন্দ্রের ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি হবে না।

প্রতিনিধিদলটি নির্বাচনী মাঠে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও এখনো সব দলের জন্য পুরোপুরি সমান সুযোগ তৈরি হয়নি, যা দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।

বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণাকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন ও ‘ধোঁকাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছে জামায়াত। তারা প্রধান উপদেষ্টাকে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

সবশেষে, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকে সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার বিষয়েও জামায়াত আপত্তি তুলেছে। তারা দাবি করেছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে, অন্যথায় নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্বের দায়ে অভিযুক্ত হবে।

রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।