রাজশাহীতে শিক্ষা ব্যবস্থায় কোচিং নির্ভরতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, স্কুল-কলেজে নিয়মিত ফি দেওয়ার পরও সন্তানদের একই শিক্ষকদের কোচিংয়ে পাঠাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপেক্ষার শিকার হতে হয়, এমনকি অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে না গিয়ে সরাসরি কোচিং সেন্টারেই পড়াশোনা করছে।
শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে পাঠ যথাযথভাবে বুঝতে না পারায় কোচিংমুখী হচ্ছে, আর সেই কোচিংয়ের শিক্ষকই আবার তাদের স্কুল বা কলেজের শিক্ষক। এতে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষকদের বেসরকারি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজশাহীর বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করেছে।
৩ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। সব স্কুল ও কলেজকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা পাঠাতে বলা হলেও শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান সাড়া দিয়েছে বলে জানা গেছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক সাহসের অভাব এবং অতিরিক্ত প্রতিযোগিতামূলক ফলাফলমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা এই সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, ক্লাসরুমে শিক্ষার মানের ঘাটতি, জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রবল প্রতিযোগিতা ও শিক্ষকদের দ্রুত ধনী হওয়ার মানসিকতা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।