রাজশাহী ওয়াসায় হিসাব গরমিল, লোকসান অব্যাহত

2026-01-14 11:59:34 [14]

গ্রাহকসংখ্যা ও পানির দর একাধিকবার বাড়লেও রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) লোকসান থেকে বের হতে পারছে না। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর লোকসান দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেই বার্ষিক প্রতিবেদন ও আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ধরনের হিসাবের গরমিল ধরা পড়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পানি বিক্রি, নতুন সংযোগ ও নিবন্ধন ফি এবং দরপত্র বিক্রি থেকে ওয়াসার আয় ছিল ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পানির দর তিন গুণ বাড়ানোর পর ২০২৩–২৪ অর্থবছরে এই আয় বেড়ে ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা দেখানো হয়। কিন্তু ২০২৪–২৫ অর্থবছরে, সংযোগ ও গ্রাহকসংখ্যা বাড়লেও আয় কমে ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এ সময়ে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৬৪২ জনে।

অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি আর্থিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ২০২২–২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ছিল ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং মোট আয় ২০ কোটি ৩১ লাখ, বিপরীতে ব্যয় ছিল ৩০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ২০২৩–২৪ সালে মোট আয় ২৩ কোটি ২৩ লাখ হলেও ব্যয় দাঁড়ায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকায়। আর ২০২৪–২৫ সালে রাজস্ব ও মোট আয় বাড়লেও ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায়, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের এই অমিল নিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ওয়াসার কর্মকর্তারা বিল আদায় বিলম্ব ও লক্ষ্যমাত্রা বনাম প্রকৃত আদায়ের ব্যাখ্যা দিলেও বিশ্লেষকদের মতে এসব যুক্তি বিভ্রান্তিকর। তারা বলছেন, আয়-ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা ও দুর্বল আর্থিক নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়, যা নিরসনে স্পষ্ট জবাবদিহিতা ও সংস্কার জরুরি।

রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।