রাজশাহী শহরে নির্মাণাধীন চারটি ফ্লাইওভারের নকশা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নকশাগত ত্রুটির কারণে ফ্লাইওভারগুলো চালু হলে যানজট কমার বদলে উল্টো নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ ৬ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
২০২৩ সালের শেষ দিকে রাসিকের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের মেয়াদকালে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এর মধ্যে তিনটির কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পগুলোর কাজ অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে।
রাসিক প্রশাসক আ ন ম বজলুর রশীদ জানান, ফ্লাইওভারগুলোর ল্যান্ডিংয়ের কারণে নিচের সড়কগুলো সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে ফ্লাইওভার চালু হলে নির্দিষ্ট স্থানে নতুন করে যানজট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ রাজশাহীর সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।
নগরের গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে যানজট কমাতে এসব ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। রায়পাড়া রেলক্রসিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বন্ধ গেট রেলক্রসিংয়ে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং নতুন বিলশিমলা রেলক্রসিংয়ে ৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বরের সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভারের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে। নিউমার্কেট অংশকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘অপরিকল্পিত’ দাবি করে কাজ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও হয়েছে। বর্তমানে ওই অংশের কাজ নকশাগত সমস্যার কারণে স্থগিত রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ও রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান জানান, চারটি ফ্লাইওভারের মধ্যে তিনটির কাজ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে বিতর্কিত অংশের নকশা নতুন করে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নকশা, যানজটের আশঙ্কা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ৬ জানুয়ারির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।