ঈদের পর উত্তরাঞ্চলের তিন জেলা—পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সড়কের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও কোথাও শুধু সীমিত পরিমাণ পেট্রল বিক্রি হচ্ছে, তাও দীর্ঘ লাইনের মাধ্যমে।
পঞ্চগড়ের ধনীপাড়া থেকে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন আশরাফুল ইসলাম। মাঝপথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে একটি পাম্পে থামেন, কিন্তু সেখানে পেট্রল না থাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নেন, গাড়ি রেখে অন্য যানবাহনে যাত্রা করবেন।
ফিলিং স্টেশন–সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রলের অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, অকটেন প্রায় বন্ধ। তবে ডিজেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি করা হচ্ছে না। দাম বাড়ার আশায় মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। খোলা বাজারে তেলের দাম লিটারপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটার এলাকায় মোট ৪৬টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৩টিতেই পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় যাত্রাপথে জ্বালানি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
দিনাজপুরের দিকে কয়েকটি পাম্পে শুধু পেট্রল বিক্রি হচ্ছে, যেখানে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে, কেউ বোতল হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এতে পাম্পের কর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রকৌশলী মামুন রানা জানান, তেল না থাকায় তিনি কাজের সাইটগুলোতে যেতে পারছেন না। একইভাবে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরাও কাজে ব্যাঘাতের সম্মুখীন হচ্ছেন, বিশেষ করে আলুর মৌসুমে ব্যবসায়ীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ওষুধ কোম্পানির কর্মী মলয় চন্দ্র দাস জানান, পেট্রল না থাকায় তিনি বাজারে যেতে পারছেন না, ফলে ফোনে অর্ডার নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, অনেকেই তেলের অভাবে মোটরসাইকেল ঠেলে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে শুধু ডিজেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, পেট্রল ও অকটেনের চেম্বার খালি থাকছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বিক্রির সুযোগ কমে যাচ্ছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
সংকট মোকাবিলায় কিছু পাম্পে রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত ও জরুরি সেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।