পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ৯৩ ব্যাচের ইফতার মাহফিল ও এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডলকে সম্মাননা প্রদান

2026-03-19 12:52:59 [33]

১৮ই মার্চ, ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় সাধারণ একটি দিন হলেও পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আজ বইছিল ভিন্ন এক হাওয়া। বিকেল ৫টায় স্কুলমাঠের সেই চেনা পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাক্তন ছাত্রদের পদচারণায়। এসএসসি ব্যাচ ৯৩-এর পরম মমতায় আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল ও সম্মাননা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং এটি ছিল শেকড়ে ফেরার এক পরম আকুলতা। দীর্ঘ বছরের ধুলো জমা স্মৃতিগুলো যেন আজ প্রাণ পেয়েছিল এই চত্বরের প্রতিটি ঘাস আর প্রাচীন দালানের কোণে।

অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন দুর্গাপুর-পুঠিয়া (রাজশাহী-৫) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও অত্র বিদ্যালয়েরই কৃতি ছাত্র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। প্রিয় প্রাঙ্গণে যখন তিনি আগমন করেন, তখন উপস্থিত শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এসএসসি ৯৩ ব্যাচের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে একটি বিশেষ 'সম্মাননা স্মারক' প্রদান করা হয়। এছাড়া, যে শিক্ষকরা আমাদের মানুষ করেছেন এবং যে কর্মচারীবৃন্দ ছায়ার মতো পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রত্যেকের হাতে বিশেষ 'শুভেচ্ছা উপহার' তুলে দেওয়া হয়। এই আদান-প্রদান ছিল যেন ভক্তি আর স্নেহের এক অপূর্ব সেতুবন্ধন।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে ৯৩ ব্যাচের ছাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক (রাজন) অত্যন্ত আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমাদের হৃদয়ের টানে। শত ব্যস্ততা ফেলে আপনারা যারা এখানে এসেছেন, আপনাদের উপস্থিতি এই চত্বরকে সেই হারানো শৈশবের মতো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এই প্রাঙ্গণ থেকেই আমরা স্বপ্নের ডানা মেলেছিলাম। আজ আমরা এখানে সমবেত হতে পেরেছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং সহপাঠী আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাদের শূন্যতা আমরা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি। আমি পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে বিগত হওয়া সকল শিক্ষক ও ছাত্রদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, “এই পুঠিয়া পিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের আদর্শের আঁতুড়ঘর। আজ আপনারা আমাকে যে সম্মান স্মারক দিয়েছেন, তা আমার কাছে পৃথিবীর যেকোনো পুরস্কারের চেয়ে দামী। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের এই স্কুলের সন্তান হিসেবে এবং এই এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে পুঠিয়ার সার্বিক উন্নয়নে আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম বিলিয়ে দেব। আপনাদের দোয়া ও পরামর্শই হবে আগামী দিনে আমার পথচলার মূল শক্তি।”

অনুষ্ঠানটি প্রাক্তন শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রবীণ শিক্ষকদের কপালে বার্ধক্যের রেখা থাকলেও প্রিয় ছাত্রদের সাফল্য দেখে তাদের চোখমুখে ছিল এক স্বর্গীয় তৃপ্তির আভা। ছাত্ররা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত মরমী। অনেক দিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগ সামলাতে পারছিলেন না অনেকেই; পুরোনো সেই হাসাহাসি আর আড্ডা যেন ক্ষণিকের জন্য সবাইকে সেই কিশোর বয়সে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুল আজিজ অত্যন্ত গম্ভীর ও স্নেহমাখা কণ্ঠে বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? তোমাদের এই অর্জন আমাদের হৃদয়কে বড় করে, আমাদের অন্তরকে প্রশান্ত করে। আজ যখন দেখি আমার ছাত্ররা দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হয়েও তাদের স্কুল ও শিক্ষকদের ভোলেনি, তখন গর্বে বুক ভরে যায়। এই সম্মাননা আর উপহারগুলো আমাদের প্রতি তোমাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রতীক। আমি দোয়া করি, তোমরা যেখানেই থাকো মানুষের সেবা করে যাও।”

সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছিল, তখন সমবেত সকলে মিলে পরম করুণাময়ের দরবারে মোনাজাতে অংশ নেন। দেশ, জাতি এবং স্কুলের পরলোকগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ দোয়া শেষে ইফতারের মাধ্যমে এই স্মরণীয় দিনের সমাপ্তি ঘটে। ইফতারের প্রতিটি দানা যেন বন্ধুত্বের স্বাদ আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে দিয়ে গেল। স্মৃতিময় সেই বিকেলটি শেষ হলেও সকলের মনে রয়ে গেল এক অমলিন ভালো লাগার রেশ।

 

রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।