ইফতারে খেজুর: ছোট ফলে বড় উপকার

2026-02-19 15:26:59 [40]

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে খেজুর যেন এক অনিবার্য উপাদান। তবে শুধু রমজানেই নয়, আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে—সারা বছর নিয়ম করে খেজুর খেলে শরীর পায় নানামুখী উপকার। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুরও শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

খেজুরকে বলা হয় পুষ্টির “পাওয়ার হাউস”। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭ থেকে ৩১৪ ক্যালরি শক্তি থাকে, যা দ্রুত এনার্জি জোগাতে সাহায্য করে। এতে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ রয়েছে, যা রোজা ভাঙার পর ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর।

পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানেও সমৃদ্ধ খেজুর। এটি দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ এবং ম্যাগনেশিয়ামের ১৩–১৪ শতাংশ সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি ভিটামিন বি৬ ও শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

হজমশক্তি উন্নত করতে খেজুরের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত খেজুর খেলে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণেও খেজুর সহায়ক। ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত মাত্রায় খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খেজুরের পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। পাশাপাশি ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও খেজুর কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিভ্রংশ বা বয়সজনিত মস্তিষ্কের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত খেজুর খেলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়।

হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও খেজুর উপকারী। এতে থাকা সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের জন্য এটি অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক খাদ্য হতে পারে।

প্রজননস্বাস্থ্য ও রক্তশূন্যতা প্রতিরোধেও খেজুরের অবদান রয়েছে। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় পরিমিত খেজুর খাওয়া মায়ের শক্তি জোগায় এবং রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে, ছোট এই ফলটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীর পায় শক্তি, সুরক্ষা ও পুষ্টি। তবে ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো জটিল রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেজুর খাওয়াই উত্তম। পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিনের খেজুর হতে পারে সুস্থ জীবনের সহজ এক অভ্যাস।

রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।