নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া চলাফেরা করা অসম্ভব। আরিফ আর হোসেনের মতো ইনফ্লুয়েন্সাররা একে একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, ফোন ছাড়া কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ নাগরিকদের ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিপন্থী।
প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এই সিদ্ধান্তকে ভোট জালিয়াতির হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, নাগরিক সাংবাদিকতা বা তাৎক্ষণিক ভিডিও রেকর্ড বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা ব্যক্তিগত মোবাইলের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। ফলে নিরাপত্তার অভাববোধ থেকে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ফটোগ্রাফার দিন মোহাম্মদ শিবলী এবং অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্টরা এই নিষেধাজ্ঞাকে ভোটের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। ভোটের পর আঙুলের কালির ছবি তোলা বা কোনো অনিয়ম দেখলে তা ভিডিও করার অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এটি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
জেসমিন মলির মতো অনেকে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে এই সিদ্ধান্তকে 'ডিজিটাল আসক্তি' কমানোর ডেনমার্কের কৌশলের সাথে তুলনা করেছেন। জুলাই বিপ্লবে ভিডিও এবং ইন্টারনেটের বড় ভূমিকা থাকার বিষয়টি স্মরণ করে অনেকেই বলছেন, কেন্দ্র দখল বা ভোট চুরির দৃশ্য যেন কেউ প্রচার করতে না পারে, সম্ভবত সেই ভয় থেকেই নির্বাচন কমিশন এমন অদ্ভুত নিয়ম জারি করেছে।
বিশিষ্ট লেখক আমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মোবাইল ফোন আসলে ভোটাররা কোথায় রেখে যাবেন? বুথের ভেতর ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা যুক্তিযুক্ত হলেও পুরো ৪শ গজ এলাকা জুড়ে নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে। নিয়মটি শেষ পর্যন্ত কেবল সাধারণ জনগণের ওপরই কার্যকর হবে এবং প্রভাবশালীরা এর বাইরেই থেকে যাবে—এমন সংশয়ও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
রাজশাহী ভয়েস
Rajshahi Voice একটি আধুনিক, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, যার মূল লক্ষ্য রাজশাহীকে সঠিকভাবে রিপ্রেজেন্ট করা এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা। রাজশাহীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারাকে প্রামাণ্য ও বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।